রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি

আন্তর্জাতিক বাজারে কমেছে জ্বালানি তেলের দাম

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা জোরদার হয়েছে। এতে রাশিয়ার ওপর দেয়া বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা জোরদার হয়েছে। এতে রাশিয়ার ওপর দেয়া বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এমন অবস্থায় দেশটি থেকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক বাজারে গতকাল দাম কমেছে পণ্যটির। খবর রয়টার্স।

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গতকাল ব্যারেলে ৮৯ সেন্ট বা প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য নেমে এসেছে ৫৯ ডলার ৬৭ সেন্টে। একই সময় মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) মূল্য দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৫৫ ডলার ৯০ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় ৯২ সেন্ট বা ১ দশমিক ৬ শতাংশ কম। এছাড়া গতকাল উভয় বাজার আদর্শেই জ্বালানি পণ্যটির দাম নেমে এসেছে চলতি বছরের মে মাসের পর সর্বনিম্নে।

এএনজেড ব্যাংকের বিশ্লেষকরা এক নোটে জানান, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এ কারণে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে।

তারা আরো জানান, রাশিয়ার জ্বালানি তেল কোম্পানিগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শেষ পর্যন্ত তুলে নেয়া হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ আরো বেড়ে যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভকে ন্যাটো ধাঁচের নিরাপত্তারা নিশ্চয়তা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। ইউরোপের মধ্যস্থতাকারী প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে চলমান আলোচনায় সোমবার অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে রাশিয়া জানিয়েছে, দেশটি কোনো ভূখণ্ড ছাড় দিতে প্রস্তুত নয়। রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই র‍্যাবকভের বরাত দিয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস জানায়, ভূখণ্ড নিয়ে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

বিশ্বে জ্বালানি তেলের শীর্ষ ব্যবহারকারী দেশ চীন। গত নভেম্বরে দেশটির শিল্প-কারখানার উৎপাদন ও খুচরা বিক্রয় প্রবৃদ্ধি আরো কমেছে। দেশটির অর্থনীতির এমন দুর্বল পরিসংখ্যান আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দরপতনে ভূমিকা রেখেছে। অনলাইন ট্রেডিং ও আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান আইজি মার্কেটসের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর এক নোটে বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় সামনের দিনগুলোয় জ্বালানি তেলের সরবরাহ আরো বাড়তে পারে। এ কারণে সামনের দিনগুলোয় পণ্যটির দামে নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।’

পিভিএম অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের বিশ্লেষক জন ইভান্স বলেন, ‘সামনের বছরেও জ্বালানি তেলের দাম কমতে থাকবে। তবে বছর শেষ হওয়ার আগে তা ব্যারেলপ্রতি ৫৫ ডলারের নিচে নামবে না।’

যুক্তরাষ্ট্রের ভেনিজুয়েলার উপকূলে গত সপ্তাহে জ্বালানি তেলবাহী একটি ট্যাংকার জব্দ করার ঘটনার পর সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বা চাহিদার ওপর জব্দ করা ট্যাংকারের খুব বেশি প্রভাব পড়েনি। এর মূল কারণ ভাসমান স্টোরেজের আধিক্য এবং ভেনিজুয়েলা থেকে চীনের ক্রয় বৃদ্ধি। ফলে ট্যাংকার জব্দ করা হলেও বাজারে জ্বালানি তেলের ঘাটতি তৈরি হয়নি।

আরও